আপনার মুঠোফোনটি ল্যান্ডস্কেপে রাখুন।
এ নাট্য দৃশ্যাংশ পাঠে আপনি -

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩ - ১৯১৩): একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার এবং নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ১৮৬৩ সালে তাঁর জন্ম। পিতার নাম কার্তিকেয় চন্দ্র রায়। তাঁর মাতা প্রসন্নময়ী দেবী ছিলেন শান্তিপুরের অদ্বৈত ঠাকুরের বংশধর। বাল্যকাল থেকেই দ্বিজেন্দ্রলাল সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ মানুষ হয়েছেন।।
তিনি ১৮৭৬ সালে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে এনট্রান্স পরীক্ষায় এবং ১৮৮৩ সালে হুগলি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বি.এ পরে ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ. পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক, পৌরণিক পারিবারিক ও সামাজিক সব ধরনের নাটকই লিখেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক নাটক রচনায় তার কৃতিত্ব সর্বাধিক। তাঁর ‘সাজাহান’, ‘মেবার পতন’, ‘চন্দ্রগুপ্ত’, ‘দুর্গাদাস’, এবং ‘রাণা প্রতাপ’ নাটক বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ১৪ টি। তাঁর আলোচ্য নাট্যাংশটি ‘সাজাহান’ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩ - ১৯১৩): একাধারে কবি, গীতিকার, সুরকার এবং নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে ১৮৬৩ সালে তাঁর জন্ম। পিতার নাম কার্তিকেয় চন্দ্র রায়। তাঁর মাতা প্রসন্নময়ী দেবী ছিলেন শান্তিপুরের অদ্বৈত ঠাকুরের বংশধর। বাল্যকাল থেকেই দ্বিজেন্দ্রলাল সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ মানুষ হয়েছেন।
তিনি ১৮৭৬ সালে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল থেকে এনট্রান্স পরীক্ষায় এবং ১৮৮৩ সালে হুগলি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বি.এ পরে ১৮৮৪ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ. পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক, পৌরণিক পারিবারিক ও সামাজিক সব ধরনের নাটকই লিখেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক নাটক রচনায় তার কৃতিত্ব সর্বাধিক। তাঁর ‘সাজাহান’, ‘মেবার পতন’, ‘চন্দ্রগুপ্ত’, ‘দুর্গাদাস’, এবং ‘রাণা প্রতাপ’ নাটক বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য। তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ১৪ টি। তাঁর আলোচ্য নাট্যাংশটি ‘সাজাহান’ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থান — আগ্রার দুর্গপ্রাসাদ, সাজাহানের কক্ষ। কাল অপরাহ্ন।
সাজাহান শয্যার উপর অর্ধশায়িত অবস্থায় কর্ণমূল করতলে ন্যস্ত করিয়া অধোমুখে ভাবিতেছিলেন ও মধ্যে মধ্যে একটি আলবোলা টানিতেছিলেন। সম্মুখে দারা দণ্ডায়মান
ভারত সম্রাট সাজাহান বৃদ্ধ। তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। আগ্রার রাজপ্রাসাদে একমাত্র কন্যা জাহানারার তত্ত্বাবধানাধীন। তাঁর চারপুত্র দারা, সুজা, মোরাদ ও ঔরঙ্গজিব। দারা জ্যেষ্ঠ পুত্র। পিতার নাম রাজ্যে পরিচালনা করেছেন তিনি। সম্রাটের দ্বিতীয় পুত্র সুজা বাংলার নবাব কিন্তু উদ্ধত স্বভাবের মানুষ। তৃতীয় পুত্র নিজে স্বকল্পিত সম্রাট। কনিষ্ঠ পুত্র ঔরঙ্গজিব মোরাদের সহকারী হয়ে আগ্রায় প্রবেশ করার সুযোগ সন্ধানে তৎপর। হঠাৎ সম্রাটের ভিত্তিহীন মৃত্যু সংবাদ ভারতের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায়, দারা জ্যেষ্ঠ পুত্র ভারত-সম্রাট হবে ভেবে সুজা, মোরাদ, এবং ঔরঙ্গজিব দারার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। সকলে একই সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করে। খবরটি দারার কাছে পৌঁছলে দারা বিদ্রোহী ভ্রাতাদের সমুচিত শাস্তি দেবার জন্য কৃতসংকল্প হন। ভগ্নী জাহানারাকে দারার পক্ষে মতপোষণ করায় সম্রাট সাজাহান মেয়েকে এ ব্যাপারে চুপ থাকতে বলেন। জাহানারা এতে রাজি নন।
এ কাজে অথর্ব পিতা সাজাহান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। তাঁর ধারণা পরিণত বয়স্ক পুত্রেরা তাঁর নিকট অল্প-বয়স্ক নির্বোধ শিশু মাত্র। তিনি চান তাঁর পুত্রদের আগ্রায় এনে মৃদু ভর্ৎসনায় সম্রাট বিরোধী কার্যকলাপ থেকে নিবৃত্ত করবেন, কারণ তিনি এখনও জীবিত আছেন।
সম্রাট দারার প্রতি স্নেহশীল হলেও অন্যান্য পুত্রদের প্রতিও তাঁর একই পরিমাণ স্নেহ-মমতা-মায়া আছে। রাজার নির্দেশ দারা যেন তাঁর ভাইদের প্রতি খড়্গহস্ত না হন। নিরুৎসাহ দারা পিতার প্রতি শ্রদ্ধাবশত তাঁর বাক্য লঙ্ঘন করতে পারেন না। কন্যা জাহানারা এমতাবস্থায় পিতার নিকট জানতে চায় যে এটা কি সম্রাট সাজাহানের উপযুক্ত কথা? এ দৌর্বল্য কি তাঁর সাজে? পিতা জানান যে তারা তাঁর পুত্র, তিনি শুধু জানেন স্নেহের শাসন। মাতৃহারা সন্তানেরা সম্রাটের হৃদয়ের এক শাসনই জানবে। তাঁর কাছে স্নেহ ছাড়া আর কোনও যুক্তি নেই। দারার স্ত্রী নাদিরা দারাকে শুধু একটি অনুরোধ জানায় যে এই যুদ্ধ আর নয়। দারা শেষবার জানায় যে এ যুদ্ধ অনিবার্য। তিনি সৈন্যদের যুদ্ধে যাবার আজ্ঞা দিতে চান। সম্রাট সাজাহান জাহানারাকে জানান যে সে যেন এ আবর্জনায় পা না দেয়। অন্তত সে পবিত্র থাকুক।
রঙ্গমঞ্চে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’ একটি জনপ্রিয় নাটক। আসলে এ মুঘল সম্রাট স্থাপত্য ভাস্কর্য শিল্পে দেশে যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের নন্দন ভাবনাকে সততই উজ্জীবিত রাখছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ একটি দীর্ঘ কবিতায় এ সম্রাটকে অমর করে রেখেছেন। ফার্সি কবি ফিরদৌস তাজমহলের সৌন্দর্য দেখে দুটো অমর কলি উপহার রেখে গেছেন- ‘স্বর্গ যদি থাকে কোথাও ধরার মাঝে, এইখানে তা, এইখানে তা, এইখানে তা রাজে’। দিল্লিশ্বরের রাজনৈতিক কার্যকলাপের চেয়ে তাঁর সৌন্দর্যচেতনা বিশ্ববাসীর কৌতূহলের বিষয় হয়ে রয়েছে। এ নাটকে সম্রাটের মানবিক সত্তা, পিতৃহৃদয়ের অন্তদ্বন্দ্বের প্রকাশই মুখ্য। নির্বাচিত পাঠ্যাংশে কেবল ওই দিকই প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে দিল্লির সিংহাসনকে কেন্দ্র করে যে একটি ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধের সূচনা হচ্ছে এবং জ্যেষ্ঠপুত্র দারা যে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিধাগ্রস্থ, স্বয়ং সম্রাট নিজেও দ্বিধাগ্রস্থ- এ থেকেই নাট্যমুহূর্ত তৈরি হয়েছে। নাটকের পরিভাষায় যাকে বলে Exposition - এটা প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে সঠিকভাবেই সংঘটিত হয়েছে। পাঠকদের বা দর্শকদের মনে আগামী পর্বে কী হতে চলেছে এ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়ে গেছে, যে কৌতূহল পরবর্তী দুইঘণ্টা দর্শকদের আসনে স্থির হয়ে বসে থাকতে বাধ্য করবে নিশ্চিত।